

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


এনসিপি মুখপাত্র ও অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দলটির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম। দুদকের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি বিএনপিরও সমালোচনা করেছেন তিনি।
বুধবার (০২ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে সারজিস আলম ইস্যুটি নিয়ে প্রতিক্রিয়াসহ সমালোচনা করেন।
পোস্টে সারজিস আলম লেখেন, ‘শেখ হাসিনার এই দুদক খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছিল এতিমের টাকা মেরে খাওয়ার! মামলা দিয়েছিল জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের মাত্র ২ কোটি টাকা আত্মসাৎ করার!’
তিনি আরও লেখেন, ‘এই দুদককে ব্যবহার করে বিএনপিসহ বিরোধী দলের অনেক নেতাকর্মীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে বছরের পর বছর জেল খাটানো হয়েছে, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে, সম্মানহানি করা হয়েছে, দেশ থেকে পালাতে বাধ্য করা হয়েছে।’
সারজিস আলম বলেন, ‘একটা অভ্যুত্থান হলো। স্বৈরাচারের পতন হলো। শেখ হাসিনা পালিয়ে গেল। কিন্তু দুদক দুদকই রয়ে গেল!’
দুদকের সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, ‘ঠিক এই কারণে বিএনপি দুদকের সংস্কার করতে রাজি হয়নি। সেই অধ্যাদেশ বাতিল করে দিয়েছে। যেন ঠিক আওয়ামী কায়দায় বিরোধী দল ও মতকে দমন করতে পারে।’
পোস্টের শেষে তিনি লেখেন, ‘বিএনপির জন্য আফসোস।’
এর আগে বুধবার বিকেলে আসিফ মাহমুদকে নিয়ে করা অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়া গেছে বলে দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হলেও পরে ওই শব্দ ব্যবহার না করার অনুরোধ জানায় সংস্থাটি।
বুধবার দুদকের মুখপাত্র আক্তারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ অনুরোধ জানান।
তিনি বলেন, ‘ব্রিফিংয়ে কথা বলতে গিয়ে সম্ভবত “প্রাথমিক সত্যতা” শব্দ বলে ফেলেছি। প্রাথমিক সত্যতা শব্দটি না ব্যবহার করার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।’
এর আগে বুধবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে দুদক জানায়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে তার মন্ত্রণালয়ে বদলি-বাণিজ্য, নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অনুসন্ধান করা হবে।
অভিযোগসংশ্লিষ্ট অন্য তিনজন হলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্মসচিব শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন এবং যুব-১ শাখার উপসচিব মো. মাসুম আহমেদ।
দুদকে দেওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল ও পদায়ন আদেশের মাধ্যমে ৭৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতির জন্য দেড় কোটি টাকা এবং পদোন্নতির পর পছন্দের স্থানে পদায়নের জন্য আরও প্রায় দুই কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয় ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছিল। ওই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বিভিন্ন টেন্ডার, কেনাকাটা ও অন্যান্য কার্যক্রমে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
দুদক জানায়, অভিযোগটি অনুসন্ধানের জন্য কমিশন চার সদস্যের একটি অনুসন্ধান দল গঠন করেছে। দলের নেতৃত্ব দেবেন দুদকের উপপরিচালক মো. জাহিদ কালাম।
দলের অন্য সদস্যরা হলেন সহকারী পরিচালক মো. নাছরুল্লাহ হোসাইন এবং উপসহকারী পরিচালক ইমরান আকন ও রোমান উদ্দিন।
এদিকে সারজিস তার পোস্টের কমেন্টে দুদকের মুখপাত্র আক্তারুল ইসলাম ‘প্রাথমিক সত্যতা’ শব্দটি ব্যবহার না করার অনুরোধের সাংবাদিকদের দেওয়া ওই বার্তার একটি স্ক্রিনশটও যুক্ত করেছেন। সেখানে তিনি কটাক্ষ করে লেখেন, ‘ক্যামেরা দেখে অধিক জোশে ভুলভাল বকার পর যখন সেন্স ফিরে আসে তখন আবার সংশোধন করতে বলে!’


