মঙ্গলবার
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাইব্যুনালে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে লোমহর্ষক সাক্ষ্য দিলেন নৌকার মাঝি

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম
সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও র‍্যাবের সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান। ছবি: সংগৃহীত
expand

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও র‍্যাবের সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে লোমহর্ষক সাক্ষ্য দিয়েছেন লাশ গুমে ব্যবহৃত নৌকার এক মাঝি। মামলার দশম সাক্ষী হিসেবে হাজির হয়ে আব্বাস মল্লিক দাবি করেছেন, র‍্যাবের অভিযানের পর চোখ ও হাত বাঁধা বন্দিদের নৌকায় তুলে বলেশ্বর নদীর গভীরে নিয়ে যাওয়া হতো। সেখানে তাদের গুলি করে হত্যার পর মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হতো।

বুধবার (০২ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে সাক্ষ্য দেন আব্বাস মল্লিক।

সাক্ষ্যে তিনি জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে বন্দিদের হত্যার পাশাপাশি মরদেহ গুম এবং হত্যাকাণ্ডকে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হিসেবে উপস্থাপনের অভিযোগ করেন।

আব্বাস মল্লিকের ভাষ্য মতে, কোনো এলাকায় র‍্যাব অভিযান চালানোর দিন বিকেলেই সাদা পোশাকে দুই সদস্য সেখানে যেতেন। তারা স্থানীয় দোকানদারদের সন্ধ্যার পর দোকান বন্ধ রাখা এবং দোকানের বাতি নিভিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিতেন।

এরপর রাত ১১টা থেকে ১২টার দিকে র‍্যাবের চার-পাঁচটি মাইক্রোবাস এসে স্থানীয় একটি বরফ মিলের সামনে থামত। ওইসব গাড়ি থেকে চোখ ও হাত বাঁধা বন্দিদের নামিয়ে ট্রলারে তোলা হতো বলে জানান সাক্ষী।

আব্বাস বলেন, ঢাকা থেকে নিয়ে আসা এসব বন্দির সঙ্গে র‍্যাব সদস্যরা রশি ও সিমেন্টের বস্তাও নিয়ে আসতেন। বন্দিদের নিয়ে ট্রলারটি পরে বলেশ্বর নদীর দিকে রওনা হতো।

সাক্ষীর দাবি, ট্রলার নদীর গভীর পানিতে পৌঁছানোর পর গতি কমিয়ে দেওয়া হতো। এরপর চোখ ও হাত বাঁধা বন্দিদের একজন একজন করে ট্রলারের ভেতর থেকে বের করে আনা হতো। ট্রলারের দুই পাশে থাকা সাপোর্টের অংশে দুই র‍্যাব সদস্য বন্দিকে চেপে ধরে রাখতেন।

এ সময় জিয়াউল আহসান নিজে এসে বন্দির মাথা, কান অথবা বুকে গুলি করতেন বলে ট্রাইব্যুনালে দাবি করেন আব্বাস মল্লিক।

তার বর্ণনা অনুযায়ী, গুলিতে বন্দি মারা যাওয়ার পর মরদেহের গলায় অথবা পায়ে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে ফেলে দেওয়া হতো মরদেহ।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank