শুক্রবার
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রানা প্লাজা নির্মাণে অনিয়মের মামলায় রায় ৬ অক্টোবর

এনপিবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৮ পিএম
ছবি: এনপিবি নিউজ
expand

সাভারে ধসে পড়া রানা প্লাজা নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা মামলার রায়ের দিন আগামী ৬ অক্টোবর নির্ধারণ করেছেন আদালত। ভবনটির মালিক সোহেল রানাসহ মামলার আট আসামির বিরুদ্ধে এই মামলা চলছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি.এম. তারিকুল কবীর মামলাটি রায়ের পর্যায় থেকে ফের যুক্তিতর্কের জন্য নির্ধারণ করেন। যুক্তিতর্ক শেষে আদালত ৬ অক্টোবর রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, অনুমোদিত নকশার বাইরে রানা প্লাজার ভবন নির্মাণ করা হয়। ছয়তলা ভবনের অনুমোদন থাকলেও পরে সেখানে আরও চারতলা নির্মাণ করা হয়। এ ছাড়া শপিং কমপ্লেক্স হিসেবে অনুমোদন নেওয়া ভবনে পাঁচটি পোশাক কারখানা পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

মামলার আট আসামি হলেন—রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানা, সাভার পৌরসভার সাবেক মেয়র রেফাত উল্লাহ, সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায়, নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, সাবেক সহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, সাবেক উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান রাসেল, সাবেক টাউন প্ল্যানার ফারজানা ইসলাম এবং লাইসেন্স পরিদর্শক মো. আব্দুল মোত্তালিব।

সোহেল রানা এই মামলায় জামিনে থাকলেও রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় তিনি কারাগারে রয়েছেন। তাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। মাহবুবুর রহমান ও ফারজানা ইসলাম মামলার শুরু থেকেই পলাতক। অন্য আসামিরা জামিনে থেকে আদালতে হাজিরা দেন। মামলার বিচার চলাকালে সোহেল রানার বাবা আবদুল খালেক ও মা মর্জিনা খাতুন বেগম মারা যান। পরে তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভার বাসস্ট্যান্ডের কাছে ১০ তলা রানা প্লাজা ধসে পড়ে। ভবনটিতে থাকা কয়েকটি পোশাক কারখানার প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিক ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন। উদ্ধার অভিযানে ১ হাজার ১৩৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জীবিত উদ্ধার করা হয় ২ হাজার ৪৩৮ জনকে। তাদের মধ্যে প্রায় দুই হাজার শ্রমিক আহত ও পঙ্গুত্বের শিকার হন। ঘটনার পাঁচ দিন পর ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় যশোরের বেনাপোল থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

রানা প্লাজা নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে পরে অনুসন্ধানে নামে দুদক। নকশার বাইরে ভবন নির্মাণের অভিযোগে ২০১৪ সালের ১৫ জুন সাভার থানায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। প্রাথমিকভাবে সোহেল রানার বাবা-মাসহ ১৭ জনকে আসামি করা হলেও তদন্তে ভবনটির নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনায় সোহেল রানার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাকে অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ২০১৭ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি অধিকতর তদন্ত শেষে ১৮ জনকে আসামি করে প্রতিবেদন দেওয়া হয়। পরে আটজনকে অব্যাহতি দিয়ে ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। তাদের মধ্যে পরবর্তীতে দুইজনের মৃত্যু হওয়ায় বর্তমানে আটজনের বিরুদ্ধে বিচার চলছে।

২০১৭ সালের ২১ মে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচার শুরু হয়। মামলায় ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৯ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। সোহেল রানার বিরুদ্ধে রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় হত্যা এবং ইমারত নির্মাণ বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে আরও দুটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank