

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাজধানীর মৌচাকে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের রমনা থানার সাবেক আহ্বায়ক বিল্লাল হোসেন তালুকদারের (৫৭) ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুর পৌনে তিনটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করে পুলিশ।
নিহত বিল্লাল তালুকদারের বড় ছেলে হৃদয় হোসেন তালুকদার জানান, দুপুরে আমার বাবার ময়নাতদন্ত ঢামেক হাসপাতালে সম্পন্ন হয়। পরে পুলিশ আমাদের কাছে আমার বাবার মরদেহ হস্তান্তর করে। এখান থেকে মরদেহ বিএনপির পার্টি অফিসের সামনে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে প্রথম জানাজা শেষে গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের নড়িয়ায় দাফন করা হবে।
উল্লেখ্য, গতকাল সোমবার (৮ জুন) রাত ৮টার দিকে মৌচাক আনারকলি মার্কেটের সামনে ভাগ্নেকে মারপিটের খবর পেয়ে এসে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন তিনি।
নিহত বিল্লালের ভাগ্নে মো. মোবারক হোসেন আকাশ জানান, সোমবার সন্ধ্যায় আনারকলি মার্কেটের সামনে কয়েকজন যুবক তাকে প্রথমে মারধর করে। পরে তিনি ঘটনাটি তার মামা বিল্লাল হোসেন তালুকদারকে জানালে বিল্লাল সেখানে আসেন।
রাত ৮টার দিকে আনারকলি মার্কেটের সামনে ওই মারামারির ঘটনাটি মীমাংসার জন্য বিল্লাল মামা এখানে আসেন। ঘটনাস্থলে আসার পর যুবদলের রমনা থানার বর্তমান আহ্বায়ক দিদারুল ইসলাম বাবু ও সেক্রেটারি লুৎফরের সঙ্গে বিল্লালের তীব্র তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে বাবুর নেতৃত্বে তার অনুসারী মিরাজ বিল্লালের বুকে ছুরিকাঘাত করেন। ছুরির আঘাতে বিল্লাল তাৎক্ষণিক মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে, রাত ৯টা ২০ মিনিটের দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত বিল্লাল হোসেন মালিবাগ বাগানবাড়ি এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় বালু ও সিমেন্টের ব্যবসায়ী ছিলেন।
এই ঘটনায় রমনা থানা পুলিশ ঢাকার মগবাজার ও মুন্সীগঞ্জ থেকে আলামিন ও রিয়াজ নামে দুইজনকে আটক করে।
অন্যদিকে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রমনা থানা যুবদলের আহ্বায়ক দিদারুল ইসলাম বাবুকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে রমনা থানার কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার দিবাগত রাতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
সেখানে যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি (দপ্তরের দায়িত্বে) নুরুল ইসলাম সোহেল স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও রমনা থানা যুবদলের আহ্বায়ক দিদারুল ইসলাম বাবুকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং একই সঙ্গে রমনা থানা যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।
