মঙ্গলবার
০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাজ্যে জব্দ ২৫ মিলিয়ন ডলারের সম্পদ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু: গভর্নর

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৯ জুন ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে অগ্রগতির কথা জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেছেন, স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্যে ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

সোমবার (৮ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সম্পাদক পরিষদের নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, পাচার হওয়া সম্পদ শনাক্ত ও জব্দে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ চলছে। জব্দ করা অর্থ দেশে ফেরাতে আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

সভায় তিনি ব্যাংকিং খাতের চলমান সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতিও তুলে ধরেন। সুশাসন প্রতিষ্ঠা, খেলাপি ঋণ কমানো, দুর্বল ব্যাংকের পুনর্গঠন এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে নেওয়া পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়।

তিনি জানান, কিছু প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনাগত পরিবর্তন ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ব্যাংকগুলোর কোর ব্যাংকিং সিস্টেম উন্নয়ন ও সমন্বয় শেষ হলে পুনর্গঠন কার্যক্রম আরও গতি পাবে।

ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি বড় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন, ব্যবস্থাপনা পরিবর্তন এবং আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেওয়া পদক্ষেপের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

খেলাপি ঋণ দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ‘অর্থঋণ আদালত আইন’ সংশোধনের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি আদায় অযোগ্য ঋণ ব্যবস্থাপনায় ‘ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি অ্যাক্ট’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান গভর্নর।

ব্যাংকিং খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিচালনা ও ঋণ বিতরণে পেশাদারিত্ব, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করাই বর্তমান সংস্কারের লক্ষ্য।

ডিজিটাল আর্থিক সেবার সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে গভর্নর জানান, একটি সমন্বিত ডিজিটাল আর্থিক ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার কাজ চলছে। এর আওতায় ডিজিটাল ন্যানো-ঋণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ঋণ মূল্যায়ন এবং ক্রেডিট ব্যুরো অনুমোদন সংক্রান্ত কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান আইডেন্টিটি, ওয়ান ওয়ালেট’ ধারণা বাস্তবায়নের দিকেও কাজ এগোচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবস্থার মাধ্যমে নগদবিহীন লেনদেন বাড়ানো এবং লেনদেন রিপোর্টিং ব্যবস্থায় আনা গেলে রাজস্ব আদায়ও বৃদ্ধি পাবে।

বিদেশে চিকিৎসার জন্য অনুমোদিত সীমার বেশি ডলার প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের আবেদনের ভিত্তিতে দ্রুত অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান গভর্নর। এছাড়া ইউপাস এলসির ক্ষেত্রে বিল ডিসকাউন্টিংয়ের জন্য ব্যবহৃত তহবিলের সুদহার কমানো হয়েছে, যা আমদানিপণ্যের মূল্য হ্রাসে সহায়ক হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নুরুল কবীর, সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, শামসুল হক জাহিদ, মতিউর রহমান চৌধুরী, মতিউর রহমান, এএমএম বাহাউদ্দীন, শাহেদ মুহাম্মদ আলী ও মোস্তফা মামুনসহ পরিষদের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নররাও বৈঠকে অংশ নেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন