

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চাঞ্চল্যকর সাংবাদিক উৎস রহমান হত্যা মামলায় একজন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রংপুর মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মসিউর রহমান খান এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে মামলার এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি আইন অনুযায়ী অন্যান্য দণ্ডাদেশ প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অন্যান্য আসামিদের বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আদালতে আসামি, আইনজীবী ও নিহত সাংবাদিক উৎস রহমানের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।
তবে আদালতের এ রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী নুরজাহান বেগম। রায় ঘোষণার পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি। এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নই।”
তিনি জানান, রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে মামলার পূর্ণাঙ্গ বিচার নিশ্চিত করতে আইনি লড়াই অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, সাংবাদিক উৎস রহমান হত্যা মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত ছিল। মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
রংপুরে ২০১৫ইং সালে মসিউর রহমান ওরফে উৎস নামের এক সাংবাদিককে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। পেশাগত কারণে তিনি খুন হয়ে থাকতে পারেন বলে পুলিশ ও সহকর্মীদের ধারণা। স্থানীয় সাংবাদিকেরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানালেও এখন পর্যন্ত এর কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি পুলিশ।
মসিউর রহমান রংপুরের স্থানীয় পত্রিকা যুগের আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ছিলেন। তিনি উৎস রহমান নামে লিখতেন। সম্প্রতি তিনি মাদক-সংক্রান্ত কয়েকটি প্রতিবেদন করেছিলেন। তাঁর সহকর্মীরা জানিয়েছেন, এরপর থেকে দুশ্চিন্তায় ছিলেন মসিউর। খুন হওয়ার দিনও যুগের আলো পত্রিকায় মাদক নিয়ে তাঁর লেখা একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। মসিউর রহমানের লাশ উদ্ধার করা হয় মহাসড়কের পাশে একটি গাছে রশি দিয়ে বাঁধা অবস্থায়। পুলিশ বলছে, হাতুড়ি বা এ-জাতীয় ভারী বস্তু দিয়ে পিটিয়ে মসিউরকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনিও নৃশংসভাবে খুন হন। অথচ আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডগুলোর সুরাহা আজ অবধি হয়নি। সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় সক্রিয় আন্তর্জাতিক সংগঠন কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টের (সিপিজে) প্রতিবেদন মতে, চলতি বছরে বাংলাদেশে অন্তত পাঁচজন সাংবাদিক খুন হয়েছেন।
পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের অপরাধ চক্র, অপরাজনৈতিক শক্তি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের দুর্বৃত্তদের চক্ষুশূল হতে হয়। এ কারণে তাঁদের আইনের সুরক্ষা খুবই প্রয়োজন। কিন্তু বিচারহীনতার সংস্কৃতি সাংবাদিকদের জীবন ও পেশাকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। যখন একের পর এক সাংবাদিক হত্যার বিচার হয় না, তখন কেবল ব্যক্তি সাংবাদিক নন, তাঁর পেশাও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ে।
রংপুরের সাংবাদিকদের সঙ্গে সঙ্গে আমরাও দাবি করি, সাংবাদিক মসিউর রহমানের হত্যাকারীদের ধরতে পুলিশ সম্ভব সবকিছু করবে। এই মামলায় কোনো গাফিলতি যাতে না হয়, তার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেও সজাগ থাকতে হবে।



