

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ময়মনসিংহের নান্দাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফজিলাতুন নেছার বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের দিন বিদ্যালয় চলাকালে উপজেলা শিক্ষা অফিসে বেশকয়েকজন প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিদ্যালয়ে পাঠদান চলার সময় তাঁরা কী কারণে কর্মস্থল ছেড়ে শিক্ষা অফিসে এসেছেন, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্ধারিত নোটিশ অনুযায়ী, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফজিলাতুন নেছার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, বদলি বাণিজ্য ও ক্ষমতার অপব্যবহারসহ বিভিন্ন অভিযোগের তদন্ত চলছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিত থাকার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে বুধবার সকালে বিদ্যালয়ে পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চলাকালে বেশকয়েকজন প্রধান শিক্ষক ও সহকারি শিক্ষককে উপজেলা শিক্ষা অফিসে অবস্থান করতে দেখা যায়। এতে প্রশ্ন উঠেছে, বিদ্যালয়ের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তাঁদের কর্মস্থল ত্যাগের প্রয়োজন কেন হলো।
শিক্ষা অফিসে আসা এক প্রধান শিক্ষককে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘এমনিতেই আসছি। ম্যাডামের বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়ার কথা। দেখতে আসছি।
শিক্ষা অফিসে আসা রাজাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসমা আক্তার বলেন, ‘ম্যাডাম আমাকে আসতে বলেছেন, তাই এসেছি। আর কিছু জানি না।’
প্রধান শিক্ষকদের শিক্ষা অফিসে আসার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন-১) মুজিব আহমেদ বলেন, ‘অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। তদন্তসংশ্লিষ্টদের উপস্থিত থাকার জন্য বলা হয়েছে। তবে সব শিক্ষক কীভাবে বা কেন এসেছেন, তা আমার জানা নেই।’
অবশ্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ বা সরকারি প্রয়োজনে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের শিক্ষা অফিসে আসা স্বাভাবিক। তবে বিদ্যালয় চলাকালে কর্মস্থল ত্যাগের ক্ষেত্রে যথাযথ অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
এদিকে নান্দাইল উপজেলায় প্রধান শিক্ষক সংকট দীর্ঘদিনের। উপজেলার ১৭৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১০৮টিতেই স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। এর মধ্যে ৪৬টি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকেরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন।
অভিভাবক ও সচেতন মহলের মতে, প্রধান শিক্ষক সংকটের এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যালয়ের পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে শিক্ষকদের কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে তদন্তের প্রয়োজনে কোনো শিক্ষককে শিক্ষা অফিসে ডাকা হলে তার কারণ ও দায়িত্বের বিষয়টি স্পষ্ট থাকা প্রয়োজন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফজিলাতুন নেছার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো বর্তমানে তদন্তাধীন। তদন্ত শেষে অভিযোগগুলোর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তাই তদন্ত প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের নিয়মিত কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সেদিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

