মঙ্গলবার
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুড়িগ্রামে তিস্তা নদীর ভাঙনঝুঁকিতে ২০ হাজার মানুষ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২০ এএম
ছবি: প্রতিনিধি
expand

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়াল ডাঙ্গা ইউনিয়নের বুড়িরহাট এলাকায় তিস্তা নদীর ভাঙনে সৃষ্টি হয়েছে জরুরি পরিস্থিতি। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে তিস্তার তীব্র স্রোতে শুরু হয় বুড়িরহাট ক্রসবাঁধের রাস্তার উত্তর ও দক্ষিণ পাশে ভাঙন। এরই মধ্যে বাঁধের প্রায় ৪০ মিটার অংশ বিলীন হয়েছে নদীতে। ভাঙন ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলছে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড।

স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাঙন নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে তা ছড়িয়ে পড়তে পারে আশপাশের এলাকায়। এতে ঝুঁকিতে পড়বেন বড়দারগা, বুড়িরহাট, রামহরি, চতুরা, কালিরমেলা ও ডাংরারহাট গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ। হুমকির মুখে রয়েছে বসতভিটা, ফসলি জমি, ঘরবাড়ি ও অন্তত পাঁচটি বাজার।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, সকাল ৬টায় তিস্তার কাউনিয়া পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ২৮ দশমিক ৭৩ মিটার। সকাল ৯টায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৮ দশমিক ৭৫ মিটারে। ওই পয়েন্টে বিপৎসীমা ২৯ দশমিক ৩১ মিটার। অর্থাৎ ৯টার পর পানির উচ্চতা বিপৎসীমার ৫৬ সেন্টিমিটার নিচে ছিল। পানির উচ্চতা বিপৎসীমার নিচে থাকলেও নদীর তীব্র স্রোতে তীর ও বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, হঠাৎ দেখা দেয় ক্রসবাঁধের রাস্তার একাংশে ভাঙন। পরে ভাঙন ছড়িয়ে পড়ে উত্তর ও দক্ষিণ পাশে। নদীর স্রোতে বাঁধের নিচের মাটি ও বালু সরে যাওয়ায় দ্রুত অবনতি হতে থাকে পরিস্থিতি। দুপুরের মধ্যে নদীতে চলে যায় বাঁধের প্রায় ৪০ মিটার অংশ।

বুড়িরহাট এলাকার বাসিন্দা নূর আলম মিয়া বললেন, 'প্রতি বছর একই জায়গায় ভাঙন হয়। গত বছরও এই জায়গা ভেঙেছিল। ব্যাগ দিয়ে নদী আটকানো যাবে না, এখানে স্থায়ীভাবে ব্লক দিতে হবে। বড় বড় নেতা আসেন, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না।'

স্থানীয় মোসলেম উদ্দিন বললেন, 'গত বছরও ভাঙনের লক্ষণ দেখা গিয়েছিল। এবারও আগে থেকেই আশঙ্কা করেছিলাম। কিন্তু সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এখন রাস্তা ভাঙতে শুরু করেছে।'

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতি বছর একই স্থানে ভাঙন দেখা দিলেও স্থায়ী প্রতিরোধের উদ্যোগ নেওয়া হয় না। ভাঙন শুরু হলে ব্যাগ ফেলে সাময়িকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। এতে সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও পরের বছর আবার একই স্থানে ভাঙন দেখা দেয়।

মেদনী গ্রামের সুলতান আলী বললেন,' শুধু জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকালে হবে না। বাঁধের পুরো অংশের ঝুঁকি নিরূপণ করে দ্রুত স্থায়ী তীররক্ষা ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে তিস্তার স্রোতে ক্রসবাঁধ ভেঙে গেলে হতে পারে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বললেন, 'বুড়িরহাট ক্রসবাঁধে হঠাৎ ভাঙনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ভাঙন রোধে নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank