

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বরযাত্রীর গাড়ি থামিয়ে নববধূকে তুলে নেওয়ার অভিযোগের এক দিন পর ভিডিও বার্তায় নিজের অবস্থান জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরের তামান্না আক্তার। তিনি বলেছেন, যেভাবেই সেখানে গেছেন, এখন সেখানেই থাকবেন। তবে তিনি স্বেচ্ছায় সেখানে গেছেন, নাকি জোর করে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা নিয়ে নতুন করে রহস্য তৈরি হয়েছে।
সোমবার রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তামান্না এসব কথা বলেন। ভিডিওতে তার দুই পাশে ছয়জন নারী এবং সামনে একজন পুরুষকে বসে থাকতে দেখা যায়। একটি কক্ষের দরজার পাশে অভিযুক্ত আতিকুর রহমান মিয়াদকেও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে ভিডিওটি কোথায় ধারণ করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভিডিও বার্তায় তামান্না বলেন, ‘আমি যেমনেই আইছি, জোর কইরা হউক, নিজের ইচ্ছায় হউক, যেমনেই হউক। আইছিতো আইছিই। এহন যদি যাইগাও, গেলেও তো আমার মান-সম্মান ফিরা আইতো না, আমার বাপ-মার মান-সম্মানও ফিরা আইতো না। গেলেও কোনো লাভ নাই। আমি আইছি, এনেই থাকবাম।’
রোববার কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের হাজিপুর বাজার এলাকায় বরযাত্রীর গাড়ি থামিয়ে নববধূকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় চর হাজিপুর গ্রামের মজিবুরের ছেলে আতিকুর রহমান মিয়াদকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তিনি ছাত্রদলের কর্মী বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।
স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হোসেনপুর উপজেলার সিদলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকার আবুল মিয়ার মেয়ে তামান্না আক্তারের সঙ্গে নান্দাইল উপজেলার রাজাবাড়িয়া গ্রামের আক্তার মিয়ার (২৮) বিয়ে হয়। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নববধূকে নিয়ে মাইক্রোবাসে করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন বর ও বরযাত্রীরা।
হাজিপুর বাজার এলাকায় পৌঁছালে ২০ থেকে ২৫ জন যুবক মাইক্রোবাসটির গতিরোধ করেন বলে অভিযোগ। আতিকুর রহমান মিয়াদের নেতৃত্বে তারা গাড়িটি থামান। পরে গাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে তামান্নাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার পর তামান্না ও আতিকুর রহমান মিয়াদের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আসে। স্থানীয় কয়েকজন দাবি করেছেন, তাদের মধ্যে আগে থেকেই সম্পর্ক ছিল। তবে এ দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে ঘটনার পর আতিকুর রহমান মিয়াদ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে লেখেন, ‘জীবনে আর কিছু চাওয়ার নাই..!’ তবে ওই পোস্টের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।
তামান্নার ভিডিও বার্তার পর তিনি বর্তমানে কোথায় আছেন এবং কীভাবে সেখানে গেছেন, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ভিডিওতে নিজের অবস্থান সম্পর্কে তামান্না কথা বললেও তিনি কোথায় রয়েছেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি।
একই সঙ্গে বরযাত্রীর গাড়ি থামিয়ে তাকে জোর করে নিয়ে যাওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, ভিডিও বার্তায় সেটি নিয়েও বিস্তারিত কিছু বলেননি। ফলে ঘটনাটি অপহরণ, নাকি তামান্না স্বেচ্ছায় সেখানে গেছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। ছেলেপক্ষ নাকি মেয়েপক্ষ অভিযোগ করবে, সেটি তারা নির্ধারণ করবে।
ওসি বলেন, মামলা না হলেও পুলিশ তামান্নাকে উদ্ধারে কাজ করছে। তাকে উদ্ধার করা গেলে ঘটনাটি আসলে কীভাবে ঘটেছে, তা স্পষ্ট হবে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আতিকুর রহমান মিয়াদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটিও বন্ধ রয়েছে।



