

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কক্সবাজারের মাতামুহুরীতে কেনা জমিতে চাষাবাদে বাধা, দখলের চেষ্টা ও ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে জয়নাল আবেদীন জনুসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন জমির মালিক জিয়াবুল হক।
গত ৩০ আগস্ট চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আমীরাবাদ এলাকার বাসিন্দা জিয়াবুল হক এ অভিযোগ করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মাতামুহুরী কোনাখালী ইউনিয়নের সিকদারপাড়া গ্রামে নিজের ও সন্তানদের নামে প্রায় সাড়ে ৫ কানি (২ দশমিক ২০ একর) জমি কিনে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল ও চাষাবাদ করে আসছেন জিয়াবুল হক। সম্প্রতি জয়নাল আবেদীন জনুর নেতৃত্বে একটি দল ওই জমি দখলের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
লিখিত অভিযোগে জিয়াবুল হক দাবি করেন, তাঁর নিয়োজিত বর্গাচাষিরা জমিতে চাষাবাদ করতে গেলে জয়নাল আবেদীন (৫৫), তামজিদ (২১), আছিয়া বেগম (৪৫), আজগর আহমদ (৫০), মিন্টু (৪৫), সাতাব উদ্দিন (৪৮), বাদল (৪৭)সহ ১০-১২ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে যায়। তারা চাষাবাদে বাধা দিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে জমিতে চাষাবাদ করতে দেওয়া হবে না এবং জমিতে গেলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, জয়নাল আবেদীন আগে তাঁর জমি চাষাবাদ করতেন। সেই সুযোগে তাঁর স্বাক্ষর জাল করে একটি ভুয়া বায়নানামা তৈরি করা হয়। ওই বায়নানামার ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে চকরিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সিআর ৮৪৮/২৬ নম্বর মামলা করা হয়। পরে বায়নানামায় ব্যবহৃত নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে বলে প্রমাণিত হয় এবং আদালত গত ১২ মে ফৌজদারি কার্যবিধির ২০৩ ধারায় মামলাটি খারিজ করেন বলে তিনি দাবি করেন।
জমির অপর মালিক জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘জাল বায়নাদলিল সৃজন করে হয়রানি ও চাঁদা দাবির অভিযোগে জয়নাল আবেদীনসহ চারজনের বিরুদ্ধে গত ১৯ আগস্ট চট্টগ্রাম জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কমল কান্তি দত্তের মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হয়েছে।’ আমন মৌসুমে জমিতে ধান রোপণ করতে না পারায় তাঁরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলেও জানান তিনি।
অভিযোগকারী জিয়াবুল হক বলেন, ‘নিজের ও সন্তানদের নামে কেনা জমিতে শান্তিপূর্ণভাবে চাষাবাদ করতে চাই। কিন্তু চাঁদা দাবি ও হুমকির কারণে বর্গাচাষিরা জমিতে যেতে পারছেন না।’ তিনি দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং জমিতে শান্তিপূর্ণভাবে চাষাবাদের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জয়নাল আবেদীন জনু। তিনি বলেন, ‘জিয়াবুল হক আমার ভায়রা ভাই। তাঁর ও তাঁর ছেলের নামে সাড়ে পাঁচ কানি জমি আমি কিনে দিয়েছি এবং দীর্ঘদিন ধরে জমিগুলো চাষাবাদ করে আসছি। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে তাঁরা জমি বিক্রি করবেন জানালে জিয়াবুলের সঙ্গে বসে দাম নির্ধারণ করি। পরে একজনের কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকার দুটি পে-অর্ডার নিই। কিন্তু জিয়াবুল জমি রেজিস্ট্রি না করে কালক্ষেপণ করছেন। এখন আমার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ করা হচ্ছে।’ তিনি বিষয়টি আইনগতভাবে মোকাবিলা করবেন বলে জানান।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শফিউল আলম বলেন, ‘কোনাখালীতে জমি দখল সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য পূর্ব বড় ভেওলা তহসিলদারকে সরেজমিনে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযোগের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।


