

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কুমিল্লা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন দপ্তরটির উচ্চমান সহকারী তাজমিনা আক্তার। অভিযোগকে কেন্দ্র করে কুমিল্লাজুড়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। যদিও অভিযুক্ত কর্মকর্তা অভিযোগগুলোকে ‘ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক’ বলে দাবি করেছেন।
আজ রোববার (২৪ মে) গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে অভিযোগ তুলে ধরে তাজমিনা আক্তার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নির্বাহী প্রকৌশলী তাকে বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। অফিসের কাজের অজুহাতে ছুটির দিনেও তাকে অফিসে ডাকা হতো। তার দাবি, অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় পরবর্তীতে তাকে মানসিকভাবে চাপ দেওয়া শুরু হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অফিসে বিভিন্ন প্রকল্পের লটারি কার্যক্রম নিয়মবহির্ভূতভাবে পরিচালনা করা হতো। কোনো ধরনের গণবিজ্ঞপ্তি ছাড়াই এসব কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে বলে দাবি তার। এছাড়া সরকারি অফিস ভবনের তৃতীয় ও চতুর্থ তলা ব্যক্তিগত আবাসন হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগও আনেন তিনি।
তাজমিনা আক্তারের ভাষ্য, গত ২১ মে তাকে নির্বাহী প্রকৌশলীর কক্ষে ডাকা হয়। সেখানে কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। ওই সময় তাকে প্রকাশ্যে অপমান করা হয়। একপর্যায়ে একজন স্টাফ তার দুই হাত চেপে ধরেন এবং তখন নির্বাহী প্রকৌশলী তার শরীর স্পর্শ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, আমি ভয়ে ও আতঙ্কে কোনোভাবে সেখান থেকে বের হয়ে আসি। ঘটনার পরপরই তাকে কুমিল্লা থেকে পটুয়াখালীতে বদলি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তাজমিনা। তার দাবি, এটি মূলত তাকে চুপ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা।
অন্যদিকে নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের সাংবাদিকদের বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি দাবি করেন, বরং ওই কর্মচারী আমাকে আমার কক্ষে অবরুদ্ধ করেছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে খবর দিতে হয়েছে।
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ খোঁজখবর নিচ্ছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তাজমিনা আক্তারের বদলির আদেশ হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
সরকারি একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের ভেতরে এমন অভিযোগ সামনে আসায় প্রশাসনিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।