সোমবার
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাল দলিলের মামলায় ৪ জন গ্রেপ্তার, জামিনে বের হয়ে বাদীকে হুমকি

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪২ পিএম
ছবি: এনপিবি নিউজ
expand

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জাল বণ্টননামা দলিল তৈরি করে জমি ও বসতবাড়ি দখলের চেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের সময় পুলিশের উপস্থিতিতেই মামলার বাদীকে হত্যার হুমকি এবং জামিনে বের হয়ে ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার রাতে উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের উত্তর ঘোড়ামরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আদালতের পরোয়ানার ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম।

তিনি জানান, জাল দলিল সৃজনের মামলায় আদালতের ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—উত্তর ঘোড়ামরা এলাকার আহম্মদ মিঞার ছেলে মো. ওমর ফারুক, আবদুল কাদেরের ছেলে আবু তাহের লিটন, আবদুল নবির ছেলে মাসুদ পারভেজ শাহেদ এবং মো. নাঈম উদ্দিন।

মামলার নথি ও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বাদীর বাবা মৃত আবদুল হকের টিপসই ও স্বাক্ষর জাল করে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে একটি বণ্টননামা দলিল তৈরি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে ওই দলিল ব্যবহার করে জমি রেজিস্ট্রি এবং সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের ২১ ডিসেম্বর সীতাকুণ্ড সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ৭৯৪৮ নম্বরের বণ্টননামা দলিলটি সম্পাদন করা হয়। এতে মৃত আবদুল হককে চতুর্থ পক্ষ হিসেবে দেখানো হলেও দলিল সম্পাদনের সময় তিনি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে উপস্থিত ছিলেন না এবং কোনো স্বাক্ষর বা টিপসই দেননি বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর পাসপোর্টে থাকা স্বাক্ষরের সঙ্গে দলিলে থাকা স্বাক্ষরেরও ব্যাপক অমিল রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, কথিত জাল দলিলটি দীর্ঘদিন গোপন রাখা হয়। ২০২৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আবদুল হক মারা যাওয়ার পর দলিলটি সামনে এনে তাঁর সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করা হয়।

মামলাটি তদন্ত করেছে চট্টগ্রাম জেলা সিআইডি। তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তদন্তে দলিলের তৃতীয় সাক্ষী মো. সাইফুলকে ওয়ারিশি আপস-বণ্টনের কথা বলে প্রতারণার মাধ্যমে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল বলেও তথ্য উঠে এসেছে। একইভাবে দ্বিতীয় সাক্ষী মাসুদ পারভেজ শাহেদের নাম দলিলে আংশিকভাবে ‘মো. শাহেদ’ উল্লেখ করে পরিচয় আড়ালের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া সীতাকুণ্ড ভূমি অফিসের একটি বিবিধ মামলায় দ্বিতীয় যুগ্ম জেলা জজ আদালতে দেওয়া জবাবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সংশ্লিষ্ট বণ্টননামা দলিলে আবদুল হকের কোনো স্বাক্ষর বা সম্মতি ছিল না বলে উল্লেখ করেছেন বলে মামলার নথিতে দাবি করা হয়েছে।

এদিকে মামলার বাদী নুরুল ইসলামের অভিযোগ, চার আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার সময়ও তারা পুলিশের সামনেই তাকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেন। জামিনে বের হয়ে তার ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার চারজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। জাল দলিল তৈরির অভিযোগসহ মামলার অন্যান্য বিষয় তদন্তাধীন রয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank