সোমবার
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তানে সন্ত্রাসীদের গুলিতে প্রাণ গেল সীতাকুণ্ডের রমজানের

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand

দীর্ঘ ৩৫ বছরের প্রবাসজীবনের অবসান ঘটিয়ে দেশে ফেরার স্বপ্ন দেখছিলেন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের নডালিয়া গ্রামের রমজান আলী (৫৫)।

দেশে ফিরে মা-বাবার কবর জিয়ারত করবেন, বিয়ে করে নতুন করে সংসার শুরু করবেন—এমন স্বপ্নই ছিল তার। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। পাকিস্তানে সন্ত্রাসীদের গুলিতে প্রাণ হারিয়ে এখন লাশ হয়ে মাতৃভূমিতে ফেরার অপেক্ষায় তিনি।

নিহত রমজান আলী নডালিয়া গ্রামের মৃত আবুল খায়েরের দ্বিতীয় ছেলে। পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় ৩৫ বছর আগে জীবিকার সন্ধানে পাকিস্তানে পাড়ি জমান রমজান। সেখানে একটি টেক্সটাইল মিলে দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন তিনি।

প্রবাসজীবনে পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল খুবই সীমিত। বাবা-মা জীবিত থাকাকালে মাঝে মধ্যে ফোনে কথা বললেও তাদের মৃত্যুর পর গত প্রায় আট বছর ধরে দেশে থাকা স্বজনদের সঙ্গে তার যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন ছিল। তবে সম্প্রতি দেশে ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন রমজান। দেশে ফেরার বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসে আবেদনও করেছিলেন তিনি। পরে তার পরিচয় ও ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য বিষয়টি সীতাকুণ্ড থানায় পাঠানো হয়।পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন নয়, ডিএসবি (গোয়েন্দা শাখা) তার গ্রামের বাড়িতে গিয়ে তথ্য যাচাই করে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনও দেয়।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি সপ্তাহের মধ্যেই দেশে ফেরার কথা ছিল রমজানের। দেশে ফিরে বিয়ে করে সংসার পাতার ইচ্ছার কথাও স্বজনদের জানিয়েছিলেন তিনি। তার বোনেরাও এরই মধ্যে ভাইয়ের জন্য পাত্রী খোঁজা শুরু করেছিলেন।

নিহতের বোন মিলি আক্তার বলেন, ‘রমজান ফোনে জানিয়েছিল, ৩৫ বছর পর দেশে ফিরে মা-বাবার কবর জিয়ারত করবে। দেশে ফিরে বিয়ে করে সংসার করারও ইচ্ছা ছিল তার। কিন্তু তার আগেই সব শেষ হয়ে গেল।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার পাকিস্তানে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন রমজান আলী। দীর্ঘ প্রবাসজীবনের পর স্বজনদের কাছে ফেরার যে অপেক্ষা ছিল, তা এখন পরিণত হয়েছে শোকের অপেক্ষায়।

বর্তমানে রমজান আলীর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। পরিবারের সদস্যদের চেষ্টা, শেষবারের মতো প্রিয় মানুষটিকে মাতৃভূমিতে ফিরিয়ে এনে মা-বাবার কবরের পাশে দাফন করা।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank