

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


‘হায়াতের কোনো বয়স নেই, কখন যে হঠাৎ চলে যেতে হয়, কেউ জানে না। কাউকে কোনো কথায় কষ্ট দিয়ে থাকলে ক্ষমা করে দিয়েন। হঠাৎ যদি দেখেন, আমি আর নেই, মাফ করে দিয়েন।’ মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এমন একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিল চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর কিশোরী রাইসা আনজুম রামিসা (১৬)।
এরপরই তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় নানা আলোচনা ও গুঞ্জন শুরু হয়েছে। তবে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার শাকপুরা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আছমত মিয়া মেম্বার বাড়ির আখতারের ঘর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
রামিসা বোয়ালখালী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম গোমদণ্ডী রায়খালী এলাকার প্রবাসী মো. জামাল উদ্দিনের মেয়ে। সে ২০২৭ সালের দাখিল পরীক্ষার্থী ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নানিসম্পর্কীয় এক বৃদ্ধার সেবা-শুশ্রূষার কাজে নিয়োজিত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে ওই বাড়িতে থাকত রামিসা। সেখানে বৃদ্ধার দেখাশোনার পাশাপাশি পড়ালেখাও চালিয়ে আসছিল সে।
মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে মাদরাসা থেকে ওই বাড়িতে ফিরে বৃদ্ধার সঙ্গে ঘুমাতে যায় রামিসা। সন্ধ্যার দিকে বৃদ্ধার ঘুম ভাঙলে তিনি রামিসাকে ঘরের সিলিংয়ের সঙ্গে থাকা ডাঁসায় গলায় দড়ি পেঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখেন। তার চিৎকারে পরিবারের সদস্য ও আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে বোয়ালখালী থানা পুলিশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। বুধবার ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় রামিসার বাবা মো. জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে বোয়ালখালী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেছেন।
বোয়ালখালী থানার ওসি মোজাফফর হোসেন বলেন, ‘এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তদের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। বুধবার ময়নাতদন্ত শেষে হাসপাতাল থেকেই লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’

