

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামগামী আন্তনগর কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের ক্যান্টিনে ৪৪ বছর বয়সী এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগের ঘটনায় ট্রেনে দায়িত্বে থাকা চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাদের পাকশি রেলওয়ে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সান্তাহার রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল উদ্দীন।
পুলিশ জানায়, ঘটনার সময় ট্রেনে দায়িত্ব পালন করা চার পুলিশ সদস্যকে আপাতত দায়িত্ব থেকে সরিয়ে পাকশি রেলওয়ে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে ওই নারী ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামের উদ্দেশে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে ওঠেন। ট্রেনটি নাটোর এলাকায় পৌঁছালে তাকে ক্যান্টিনে নিয়ে গিয়ে ক্যান্টিনবয় আবু বক্কর সিদ্দিকসহ কয়েকজন ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
একপর্যায়ে ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে ট্রেনের অন্য যাত্রীরা ক্যান্টিনের দিকে এগিয়ে যান। পরে তারা আবু বক্কর সিদ্দিককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। তিনি নাটোরের লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর গ্রামের মৃত মাসুদ রানার ছেলে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলায় মোট পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের মধ্যে দুই পুলিশ সদস্যের নাম রয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগের পর আবু বক্কর সিদ্দিককে আটক করে পুলিশ। পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার সকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
এদিকে, ঘটনার সময় ট্রেনে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তাদের দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের গাফিলতি বা অভিযোগের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সান্তাহার রেলওয়ে থানার ওসি দুলাল উদ্দীন বলেন, ‘ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী ঘটনার সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অন্য অভিযুক্তদের সম্পৃক্ততার বিষয়েও তদন্ত চলছে।’
পুলিশ বলছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কার কী ধরনের সম্পৃক্ততা ছিল, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। একদিকে ধর্ষণের অভিযোগের তদন্ত চলছে, অন্যদিকে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা নিয়েও অনুসন্ধান করা হচ্ছে।


