মঙ্গলবার
০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাম সামলাতে বেহাল দশা ভোলা জেনারেল হাসপাতালে, সীমাহীন দুর্ভোগ

ভোলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:০৩ পিএম আপডেট : ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:০৭ পিএম
হাম ইউনিট, ভোলা জেনারেল হাসপাতাল
expand
হাম ইউনিট, ভোলা জেনারেল হাসপাতাল

ভোলার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে হামে আক্রান্ত রোগীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে পর্যাপ্ত জনবল ও চিকিৎসকের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা।

মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে হাসপাতালটিতে ঘুরে রোগীদের চরম ভোগান্তি ও হাসপাতালের নানা অব্যবস্থাপনার চিত্র দেখা গেছে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসকের সংখ্যা কম হওয়ায় সেবা পেতে চরম বিঘ্ন ঘটছে। দুপুর ১২টা পার হয়ে গেলেও ওয়ার্ডে কোনো চিকিৎসকের দেখা মেলেনি বলে অভিযোগ করেন অনেকে। স্বজনদের দাবি, তারা চিকিৎসা পেলেও গুণগত মানসম্মত সেবা পাচ্ছেন না। হাসপাতালে ডাক্তার ও নার্সের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হলে সেবার মান আরও উন্নত হতো।

এছাড়াও হাসপাতালের সাধারণ পরিচ্ছন্নতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের অভিযোগ, ওয়ার্ডের ঠিক সাথেই রাখা হয়েছে ময়লার ডাস্টবিন। সেগুলো অতিরিক্ত ময়লায় উপচে পড়ছে, যা দেখে নিয়মিত পরিষ্কার না করার বিষয়টি স্পষ্ট।

পুরো ইউনিটের জন্য টয়লেট রয়েছে মাত্র একটি, যা অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন ও ব্যবহারের অনুপযোগী। টয়লেটের দরজাটি ভাঙা এবং লক করার কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে ভেতরে থাকা অবস্থায় রোগীদের সার্বক্ষণিক আতঙ্কে থাকতে হয়। পাশাপাশি, গরমে ওয়ার্ডের বেশ কয়েকটি ফ্যান নষ্ট হয়ে পড়ে থাকলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেয়নি বলে জানান রোগীরা।

সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে হাসপাতালের শিশু বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘শিশু ওয়ার্ড, হাম ইউনিট, স্ক্যানু (SCANU) ওয়ার্ড এবং ডায়রিয়া ওয়ার্ড— এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ আমাকে একাই সামাল দিতে হচ্ছে। এর ফলে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে। তারপরও নিজের সাধ্য অনুযায়ী রোগীদের স্বতঃস্ফূর্ত সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।’ তিনি আরও জানান, রোগীর চাপ বাড়ায় কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে অপারেশন থিয়েটারকে সাময়িকভাবে হাম ইউনিটের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের অসচেতনতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষ সচেতন না হওয়ায় হামের রোগী নিয়ে শিশু ওয়ার্ড বা সরাসরি চেম্বারে চলে যাচ্ছে। ছোঁয়াচে এই রোগটি যেন ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্যই সরকারের নির্দেশনায় হাম ইউনিটকে আলাদা করা হয়েছে। তবে জনবল সংকটের বিষয়ে বারবার কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করেও এখনো কোনো আশানুরূপ ফল পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান।

ডিউটিতে থাকা কর্তব্যরত সিনিয়র সেবিকা (নার্স) জানান, হাম ইউনিটে শয্যা সংখ্যা মাত্র ১৮টি। কিন্তু এর বাইরেও যত রোগী আসছে, কাউকেই ফিরিয়ে না দিয়ে সাধ্যমতো সেবা দেওয়া হচ্ছে। রোগীর স্বজনদের অসচেতনতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটি একটি ছোঁয়াচে রোগ হলেও স্বজনরা বিষয়টি গুরুত্ব দিতে চান না। নিয়মানুযায়ী প্রতি ৩ জন রোগীর জন্য একজন নার্স প্রয়োজন। কিন্তু এখানে ৬০ জনেরও বেশি রোগীর জন্য আমি একা দায়িত্ব পালন করছি। আমার সাথে শুধু কয়েকজন ইন্টার্ন নার্স রয়েছে।’

তিনি সংবাদ মাধ্যমের বরাতে সরকারের কাছে অবিলম্বে হাসপাতালে জনবল ও নার্সের সংখ্যা বৃদ্ধির জোর দাবি জানান, যাতে করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকে সঠিক চিকিৎসা সেবা প্রদান করা সম্ভব হয়। ভোলার সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এই সংকটের দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন