মঙ্গলবার
০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আইসিইউ উদ্বোধনের আড়াই বছরেও সেবা পায়নি কেউ, নষ্ট হচ্ছে যন্ত্রপাতি

মাদারীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৯ জুন ২০২৬, ০৭:১২ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

মাদারীপুরে হামসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও চালু হচ্ছে না কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১০ শয্যার আইসিইউ সেবা। ফলে অলস পড়ে থাকায় নষ্ট হচ্ছে আধুনিক সব যন্ত্রপাতি। আইসিইউর সেবা না পাওয়ায় মুমূর্ষু রোগীদের পাঠানো হচ্ছে ফরিদপুর কিংবা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এতে খরচের সঙ্গে বাড়ছে ভোগান্তি। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। অন্যদিকে স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, জনবল ঘাটতির কারণে চালু করা যাচ্ছে না এই আইসিইউর সেবা।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, মাদারীপুর সদর উপজেলার তালতলা এলাকার বাসিন্দা সাহিদা বেগম। ছয় মাসের সন্তান ফাহিমকে ভর্তি করেন ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে। হামে আক্রান্ত ছেলেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেন চিকিৎসক। স্বামী ফরিদ চৌকিদার রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। অর্থাভাবে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে পারছেন না ফাহিমের বাবা-মা। একই অবস্থা এখানে সেবা নিতে আসা অধিকাংশ মুমূর্ষু রোগীর।

অথচ জেলার সাড়ে ১৩ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার জন্য ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় ২৫০ শয্যার হাসপাতাল। কেনা হয় তিন কোটি টাকার আইসিইউসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি। রোগীদের সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে ২০২৩ সালের নভেম্বরে উদ্বোধনও করা হয় ইউনিটটি। অথচ আজও মিলছে না সেবা।

মানুষ রোগাক্রান্ত হয়ে যখন বেঁচে থাকার সক্ষমতা হারায়, তখন প্রয়োজন হয় আইসিইউর। লাইফ সাপোর্ট দিয়ে রোগীকে বাঁচিয়ে রাখার এসব যন্ত্রপাতি সারি সারি সাজানো থাকলেও ২৪ ঘণ্টাই বন্ধ থাকে হাসপাতালের সপ্তম তলায় আইসিইউর জন্য নির্ধারিত কক্ষটি। এতে ক্ষুব্ধ নাগরিক সমাজ।

মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ানের ২৬৭ পদের মধ্যে ১০২টি পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি রয়েছে। শিশু কিংবা বৃদ্ধ—মুমূর্ষু যেকোনো রোগীর জন্য আইসিইউ সেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাসপাতালে প্রতিনিয়তই রোগী বাড়ছে, তবে কেন এই আইসিইউ সেবা চালু হচ্ছে না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

সাহিদা বেগম বলেন, বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই এত বড় ভবনে আইসিইউ সেবা চালু নেই। আমরা গরিব অসহায় মানুষ। কীভাবে ঢাকায় নিয়ে উন্নত চিকিৎসা করাবো? চাই সরকার দ্রুত এই হাসপাতালে সব ধরনের চিকিৎসাসেবা চালু করুক। তাহলে আমাদের মতো মানুষ প্রয়োজনীয় সেবা পাবে।

সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকা থেকে আসা মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘আমার ছেলেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে এখানকার চিকিৎসক। ঢাকায় যাওয়া-আসা একদিকে ভোগান্তি, অন্যদিকে কষ্ট। এতে চিকিৎসা খরচ অনেক বেড়ে যায়। তাই বাধ্য হয়ে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালেই ছেলেকে ভর্তি রেখেছি। কী করব, আমাদের মতো মানুষের প্রাইভেট ক্লিনিকে সেবা পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার।’

‘নিরাপদ চিকিৎসা চাই’ সংগঠনের মাদারীপুর জেলা শাখার সভাপতি মশিউর রহমান পারভেজ বলেন, ‘মানুষকে দেখানোর জন্য সাত তলার একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। কিন্তু আধুনিক মানের কোনো সেবা নেই। নেই ভালো মানের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। তাহলে কেন কোটি কোটি টাকা খরচ করে এই ভবন নির্মাণ করা হলো? আর আইসিইউ সেবা কেন চালু হচ্ছে না, সেটি মাদারীপুরবাসী জানতে চায়।’

মাদারীপুরের সিভিল সার্জন ডা. শরিফুল আবেদীন কমল বলেন, ‘আমরা প্রতিনিয়তই চেষ্টা করে যাচ্ছি। এটি চালু করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই শিগগিরই আইসিইউর সেবা চালু হবে বলে আশা করছি।’

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন