

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ হাইস্কুল গেট থেকে সোনাইর খামার অভিমুখে মাত্র এক কিলোমিটার সড়ক নির্মাণকাজ দীর্ঘ তিন বছরেও শেষ হয়নি। প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পের মেয়াদ ছিল দেড় বছর। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কাজের অগ্রগতি অর্ধেকেরও কম। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকার হাজারো মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং কাজ ফেলে রাখার কারণেই সড়কটির এমন বেহাল অবস্থা তৈরি হয়েছে।
এলজিইডি উপজেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সড়কটির নির্মাণকাজ পায় কুড়িগ্রামের “অনি ট্রেডার্স” নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০২৩ সালে কার্যাদেশ দেওয়া হয় এবং ২০২৪ সালের মধ্যেই কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় ইতোমধ্যে দুই দফা সময় বাড়ানো হয়েছে। এরপরও কাজ সম্পন্নের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ বাকি রেখেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়ক নির্মাণের ৮০ শতাংশ বিল উত্তোলন করেছে। একই সঙ্গে মূল ঠিকাদার কাজটি সাব-কন্ট্রাক্টে অন্যদের দিয়ে করাচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে নিম্নমানের ইট ও খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে। বালুর পরিবর্তে ফেলা হয়েছে ইটভাটার পচা রাবিশ। কোথাও কোথাও শুধু ইটের খোয়া ফেলে রোলার চালিয়ে কাজ শেষ দেখানো হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কার্পেটিং না করায় বৃষ্টির পানিতে সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে সাইকেল, রিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচলে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাত্র এক কিলোমিটার সড়কের কাজ তিন বছর ধরে ঝুলে থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রায়গঞ্জ ইউনিয়নের হাজারো মানুষ। কৃষিপণ্য হাটে নিতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কৃষকদের। পাশাপাশি শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীরাও প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।
রায়গঞ্জ বাজারের নগরবন্ধ স্টোরের মালিক দানিশ বলেন, রাস্তার এমন করুণ অবস্থায় আমরা খুব কষ্টে আছি। একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি, কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি।
সড়ক নির্মাণকাজের সাব-ঠিকাদার হিসেবে অভিযুক্ত ফারুক ব্যাপারী বলেন, কাজ বন্ধ আছে তাতে কী হয়েছে? ঢাকা থেকে টাইম এক্সটেনশন নিয়ে পরে করা হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মূল ঠিকাদার মাঠে না থেকে সাব-কন্ট্রাক্টে কাজ দিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছেন। এলাকাবাসীর দাবি, নাগেশ্বরীর এসবি ইটভাটার মালিক ফারুক ব্যাপারী ও কুড়িগ্রামের আরিফ নামের এক ঠিকাদার বাস্তবে কাজটি পরিচালনা করছেন।
এ বিষয়ে এলজিইডি নাগেশ্বরী উপজেলা প্রকৌশলী মামুনুর রহমান বলেন, চার দিন হলো আমি এ উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবো। যদি কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুড়িগ্রাম এলজিইডির জেলা প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে চুক্তি বাতিলসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তবে সাব-কন্ট্রাক্টে কাজ দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অনি ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী সাধন চন্দ্রের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা সড়ক নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, উন্নয়নের নামে নিম্নমানের কাজ করে সরকারি অর্থ অপচয় করা হলেও ভোগান্তি কমছে না সাধারণ মানুষের।